উত্তর কোরিয়া পূর্ব উপকূল থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যা দুই মাসের মধ্যে প্রথম এমন পরীক্ষা। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্যমতে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং চীন সফরে থাকাকালীন এই উৎক্ষেপণ ঘটে। এর আগে গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক চালিত সাবমেরিন তৈরির পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়ার পর পিয়ংইয়ং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল।
এই উৎক্ষেপণ উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের ঐতিহাসিক সম্মেলনের ঠিক আগে অনুষ্ঠিত হলো, যা পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সম্মেলনে অর্থনৈতিক নীতি ও প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কিম জং-উন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের জন্য নতুন কারখানা নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, কিম সম্প্রতি একটি অস্ত্র উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করে উৎপাদন ক্ষমতা ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। এই পদক্ষেপগুলো আসন্ন রাজনৈতিক বৈঠকের আগে উত্তর কোরিয়ার প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদারের ইঙ্গিত দেয়।
উত্তর কোরিয়ার দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ, সম্মেলনের আগে উত্তেজনা
উত্তর কোরিয়া দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, যা সরাসরি তদারক করেছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পিয়ংইয়ংয়ের পশ্চিমে সমুদ্রের ওপর নির্ধারিত কক্ষপথে উড়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। কিম পরীক্ষার ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে পারমাণবিক সক্ষমতার টেকসই উন্নয়নের ঘোষণা দেন।
কেসিএনএ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সুনির্দিষ্ট স্থান উল্লেখ করেনি। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপ জানিয়েছে, তাদের সামরিক বাহিনী রোববার সকালে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে সুনান এলাকা থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করেছে। সংস্থাটি জানায়, উত্তর কোরিয়া বছরের শেষের দিকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাতে পারে।
কিম বলেন, নিরাপত্তা হুমকির কারণে পারমাণবিক সক্ষমতার নিয়মিত পরীক্ষা প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পিয়ংইয়ং সীমাহীন ও টেকসই পারমাণবিক উন্নয়নের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা তদারক করে পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ঘোষণা কিম জং উনের
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ২০২৬ সাল থেকে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের নির্দেশ দিয়েছেন। শুক্রবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে নতুন অস্ত্র কারখানা নির্মাণেরও আদেশ দিয়েছেন তিনি। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কিম বিভিন্ন গোলাবারুদ ও অস্ত্র কারখানা পরিদর্শন করেন এবং রাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও আর্টিলারি বাহিনীর ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের নির্দেশ দেন।
কিম বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন খাত যুদ্ধ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব বহন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে, যা বিশ্লেষকদের মতে আঘাতের নির্ভুলতা উন্নত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার উদ্দেশ্যে।
এই সফরের খবর আসে একদিন পর, যখন কিম একটি পারমাণবিক সাবমেরিন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির হুমকি মোকাবিলার অঙ্গীকার করেন। ২০২৬ সালের শুরুতে ক্ষমতাসীন কোরিয়ান ওয়ার্কার্স পার্টি পাঁচ বছর পর প্রথম কংগ্রেস আয়োজন করবে, যেখানে পরবর্তী পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক ও সামরিক উন্নয়ন পরিকল্পনা চূড়ান্ত হবে।
২০২৬ সাল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন কিম জং উন
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিজে উপস্থিত থেকে দেশটির পূর্ব উপকূলে একটি উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ তত্ত্বাবধান করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করেছে, যা উচ্চ-উচ্চতায় কার্যকর নতুন প্রজন্মের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নের অংশ।
কেসিএনএ আরও জানায়, কিম পৃথক সফরে প্রায় ৮,৭০০ টন ওজনের একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন, যা ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম হবে। এই প্রকল্পটি নৌবাহিনী আধুনিকায়নের অংশ, যা শাসক দলের ঘোষিত পাঁচটি প্রতিরক্ষা অগ্রাধিকারের একটি। কিম বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ নয়, তাই পারমাণবিক সক্ষমতা ও নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ অপরিহার্য।
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নববর্ষ উপলক্ষে কিমকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ২০২৫ সালকে মস্কো-পিয়ংইয়ং সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন।
কিম জং উনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্প পরিদর্শন, উত্তেজনা বাড়ছে
বুধবার উত্তর কোরিয়া কয়েক মাস পর প্রথমবারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়, পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে একাধিক স্বল্প-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর-পূর্ব দিকে নিক্ষেপ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার (২১৭ মাইল) দূরত্বে উড়ে যায় এবং সমুদ্রে না পড়ে স্থলভাগে ল্যান্ড করেছে। এই নিক্ষেপটি দক্ষিণ কোরিয়ায় এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের আগে ঘটে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা অংশ নেবেন। জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পরিচালিত এই পরীক্ষার পর দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সঙ্গে সঙ্গে তথ্য বিনিময় করেছে। প্রেসিডেন্ট ইউন সুক-ইয়োল জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক আহ্বান করেছেন। জাপানের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে জাপানের নিরাপত্তার জন্য তাত্ক্ষণিক কোনো হুমকি নয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ পরীক্ষা সম্ভবত এপেক সম্মেলনের আগে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে প্রেরিত হয়েছে।
বুধবার উত্তর কোরিয়া কয়েক মাস পর প্রথমবারের মতো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়, পিয়ংইয়ংয়ের কাছাকাছি এলাকা থেকে একাধিক স্বল্প-পরিসরের ক্ষেপণাস্ত্র উত্তর-পূর্ব দিকে নিক্ষেপ করা হয়
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, তার কাছে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “সুন্দর স্মৃতি” আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের দাবি প্রত্যাহার করলে তিনি সংলাপের জন্য প্রস্তুত। কিম আগে ট্রাম্পের সঙ্গে তিনবার দেখা করেছেন, কিন্তু ২০১৯ সালে পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণে আলোচনা ভেঙে যায়। কিম বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবতা স্বীকার করলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব। নতুন সিউল সরকার ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপ পুনরায় চালু করার আহ্বান জানাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন তার বুলেটপ্রুফ তেয়াং-হো ট্রেনে পিয়ংইয়ং ত্যাগ করে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন। সেখানে তিনি চীনের শি জিনপিং ও রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২৬ দেশের নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন। নিরাপত্তার কারণে ২০ ঘণ্টার ট্রেনযাত্রা বেছে নেওয়া হয়েছে। সাঁজোয়া ট্রেনটি বুলেটপ্রুফ কাচ, রাডার ফাঁকি দেওয়া জাল এবং অনবোর্ড মর্টারসহ সজ্জিত। কিম ২০১৮ সাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সফরে এই ট্রেন ব্যবহার করে আসছেন।
আরও শক্তিশালী হচ্ছে উত্তর কোরিয়া। তৈরি হচ্ছে পারমাণবিক সব শক্তিশালী যুদ্ধাস্ত্র। দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং জানান, উত্তর কোরিয়ার সক্ষমতা এই পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রতিবছর ১০-২০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে। পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, উত্তর কোরিয়া আনুমানিক ৫০টি ওয়্যারহেড তৈরি করেছে। এছাড়াও দেশটির কাছে ৪০টি পর্যন্ত পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য বিচ্ছিন্ন উপাদান রয়েছে। লি বলেন, আগের সরকারের কঠোর নীতি এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনীতির অভাব রয়েছে। ফলাফল হলো উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক কর্মসূচি বিকাশ অব্যাহত রেখেছে।’ এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন, তিনি চলতি বছরেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আরও আলোচনার জন্য তিনি প্রস্তুত। দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সোমবার প্রথমবারের মতো হোয়াইট হাউজ সফর করেন।
নৌ যুদ্ধজাহাজের পরিদর্শনকালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডার সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ মহড়ায় পারমাণবিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত করছে, যা পিয়ংইয়াং আগ্রাসনের প্রস্তুতি মনে করে। তবে ওয়াশিংটন ও সিউল বলছে, এসব মহড়া প্রতিরক্ষামূলক। সীমান্তে উত্তেজনা থাকলেও দক্ষিণ কোরিয়া লাইভ-ফায়ার মহড়া চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পিয়ংইয়ংয়ের প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং শান্তি ও উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছেন।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি সীমান্তে লাউডস্পিকার প্রচারণা বন্ধ করার মতো পদক্ষেপকে ভুল সময়ের পুনরাবৃত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। কিম ইয়ো জং বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া আবেগপ্রবণ কথার মাধ্যমে পুরনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ভুল ধারণা করছে। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা জোট এবং পিয়ংইয়ংয়ের বিরুদ্ধে থাকার নীতিকে সমালোচনা করে বলছেন, তারা কোনো আলোচনায় আগ্রহী নয়।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সেনাবাহিনীকে প্রকৃত যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সৈন্যদের শত্রুকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানান। এই বার্তা তিনি একটি লাইভ-ফায়ার মহড়া পরিদর্শনের সময় দেন। এ নির্দেশ এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অস্ত্র ও সেনা সহায়তা দিচ্ছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলো দাবি করছে। এতে শত শত উত্তর কোরিয়ান সেনার মৃত্যুর কথাও বলা হয়েছে। কিম মস্কোকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পুতিনের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছেন।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়াকে পূর্ণ সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। কিম জং-উন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে এই আশ্বাস দেন। ওয়োনসানে তাদের বৈঠকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিসহ সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। উত্তর কোরিয়া ৩০ হাজার সেনা পাঠাতে পারে এবং ইতোমধ্যে রাশিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ করেছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত পরিবহণ দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর বিনিময়ে উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে গাইডেন্স ও ড্রোন প্রযুক্তির মতো অস্ত্র প্রযুক্তিতে সহায়তা পাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়া তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন নেতৃত্বাধীন কোয়াডের ওপর, যারা সম্প্রতি তাদের বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পিয়ংইয়ং কোয়াডের এই পদক্ষেপকে ‘গুরুতর রাজনৈতিক উস্কানি’ ও ‘বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতি একতরফাভাবে পরিবর্তনের চেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা ‘সাইবার হুমকি’ তৈরির অভিযোগ এনেছে এবং এর ফলে নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে। উল্লেখ্য, কোয়াড হল অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি অনানুষ্ঠানিক কৌশলগত ফোরাম।
সিএনএন-উল্লেখিত একটি ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেন যুদ্ধে লড়তে উত্তর কোরিয়া প্রায় ৩০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে উত্তর কোরীয় যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ হতে পারে। ২০২৪ সালে এর আগে ১১ হাজার সেনা পাঠানো হয়, যাদের অনেকে হতাহত হন। রাশিয়া তাদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে এবং ইউনিটে অন্তর্ভুক্ত করছে। সাম্প্রতিক উপগ্রহ চিত্রে সেনা পরিবহনের তৎপরতা বেড়েছে। পাশাপাশি, কুরস্ক অঞ্চলে সহায়তায় উত্তর কোরিয়া নির্মাণ শ্রমিক ও মাইন অপসারণকারীও পাঠাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ইরানে মার্কিন হামলাকে জাতিসংঘের সনদ লঙ্ঘন উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন। এই উত্তেজনার জন্য ইসরাইলের অব্যাহত যুদ্ধ প্রচেষ্টা ও ভূমি দখলের নীতিকে দায়ী করে মুখপাত্র বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো স্বীকৃতি ও উৎসাহেই মূলত ইসরাইল এসব কাজ করে যাচ্ছে। আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই উসকানিমূলক ও সংঘর্ষমুখী আচরণের বিরুদ্ধে একযোগে নিন্দা ও প্রত্যাখ্যানের আওয়াজ তুলতে হবে।’
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের সুনান থেকে উত্তর-পশ্চিম দিকে ১০টি মাল্টিলঞ্চার মিসাইল ছুড়েছে উত্তর কোরিয়া। তবে এর বেশি কিছু জানায়নি দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। জানা গেছে, উত্তর কোরিয়া যেসব মাল্টিলঞ্চার মিসাইল নিক্ষেপ করেছে সেগুলো স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসেবে বিবেচনা করে দক্ষিণ কোরিয়া। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজ্যুলেশন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করতে পারবে না। তবে দেশটি এসব নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা করে না।
উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, উত্তর কোরিয়া ইসরায়েলের সামরিক হামলার কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং তা দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানাচ্ছে। ইসরায়েল যে ইরানে বেসামরিক জনগণকে হত্যা করছে, সেটি মানবতার বিরুদ্ধে ক্ষমাযোগ্য অপরাধ। আরো বলেছে, রাষ্ট্রপক্ষীয় জঙ্গি হামলার এই অবৈধ কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের নতুন এক সর্বাত্মক যুদ্ধে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। উত্তর কোরিয়া বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ক্যান্সারের মতো এক সত্তা এবং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রধান হুমকি।
শুক্রবার রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, শত্রুদের হুঁশিয়ার দিয়ে কোরিয়ার নেতা কিম জং বলেন, পারমাণবিক হামলার জন্য প্রস্তুত হোন। এরপর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও উৎক্ষেপণ করেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা। শত্রুদের সতর্ক করতে ও পারমাণবিক হামলার সক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশে ওই পরীক্ষা পরিচালিত হয় বলে দাবি করেছে কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। কিম বলেন, উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব পারমাণবিক বাহিনীর ওপর বর্তায়। তাই পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারে সদা প্রস্তুত থাকা তাদের কর্তব্য। বক্তব্যের বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে কঠোর বাক্যবাণে জর্জরিত করেছেন তিনি।
ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে জানুয়ারিতেই উত্তর কোরিয়ার সেনাদের রাশিয়ার কুরস্ক যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরিয়ে নিয়েছে উত্তর কোরিয়া, দাবি দক্ষিণ কোরিয়ার। ধারণা করা হচ্ছে ১০ হাজার সেনা পাঠানো হয়েছিল, এরমধ্যে নিহত হয়েছে ৩ শতাধিক, আহত ও বন্দী ২৭০০! এর আগে ইউক্রেনের সামরিক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়ার সেনারা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পালিয়ে গিয়েছিল। হতাহত ও বন্দীও হয়েছে।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ৪৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।